পঞ্চান্নতম অধ্যায়: শেষ দিনের পরিকল্পনা
প্রিয় খেলোয়াড়গণ, আজ আমি যে গেমটি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছি, আমি নিশ্চিত আপনি যদি নিজে না-ও খেলেন, অন্তত গেমটির নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। এই গেমটির নাম ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’। এটি একটি মোবাইল এআর গেম, প্রকাশের মাত্র এক মাসের মধ্যেই এর খেলোয়াড় সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। বলা যায়, এ বছরের মোবাইল গেমগুলোর মধ্যে এটি একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী ও আলোড়ন সৃষ্টি করা গেম।
অনলাইন গেমের কথা উঠলে আমাদের মনের মধ্যে সাধারণত পুরুষ খেলোয়াড়দের আধিক্যের একটা চিত্র ভেসে ওঠে। কিন্তু ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’ এই ধারণাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে। এটি এমন একটি গেম যেখানে নারীদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। সর্বশেষ অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই গেমের খেলোয়াড়দের মধ্যে ৭০% নারী।
যদি এটি শুধুমাত্র একটি বিনোদনমূলক গেম হতো, তবে বিষয়টি সহজেই বোঝা যেত। কিন্তু ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’ একটি ভৌতিক গেম, যারা একবার খেলেছেন তারা জানেন এর দৃশ্যপট ও চরিত্রগুলো যথেষ্ট ভীতিকর। তাহলে কীভাবে এমন একটি ভয়ংকর গেম এত বিপুল সংখ্যক নারীকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে? আসুন, আমি আপনাদের কিছু কারণ ব্যাখ্যা করি।
প্রথমত, গেমটি অত্যন্ত সহজ। প্রকৃতপক্ষে ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’কে অবসর যাপনের গেম বলা যেতে পারে। কেন? কারণ এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুবই সহজ—প্রায় কোনো জটিলতা নেই, কেবল মোবাইল হাতে নিয়ে এদিক-ওদিক ছবি তুললেই চলে। এ কারণে এটি অন্যান্য যুদ্ধভিত্তিক মোবাইল গেম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মেয়েরা সাধারণত জটিল নিয়ন্ত্রণের গেম খেলতে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’ যেন নিখুঁত একটি বিনোদন। এখানে কোনো জটিলতা নেই।
গেমের ধরনও সহজ, মূলত এটি প্রলয়-পরবর্তী টিকে থাকার গল্প ঘিরে আবর্তিত। সহজভাবে বলতে গেলে, এখানে আপনাকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা রসদ খুঁজে বের করতে হয়, যাতে আপনি বেঁচে থাকতে পারেন। এর মধ্যে খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব জগতে ঘুরে বেড়ানোর সময় আপনি গেমের জগতে নানা জিনিস খুঁজে পান। এই মজাটাই আলাদা—মনে হয়, গেমের মাধ্যমে আপনি এক নতুন অচেনা জগৎকে চিনে নিচ্ছেন।
দ্বিতীয়ত, ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’ নতুনত্ব ও চমক নিয়ে আসে। খেলতে খেলতে আপনি জানেন না কখন হঠাৎ করে জম্বি এসে আক্রমণ করবে, কিংবা কখন আপনার খুঁজে পাওয়া জিনিসপত্র আবার নতুন করে আসবে। অনেক মেয়ে খেলতে গিয়ে চমকে চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু তারা এতে প্রচণ্ড উত্তেজনা অনুভব করেন। এটি যেন রোলার কোস্টারে ওঠার মতো—ভয়াবহ হলেও একইসঙ্গে দারুণ রোমাঞ্চকর। এই গেমের মাধ্যমে মেয়েরাও উত্তেজনার স্বাদ পান।
তৃতীয়ত, ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’-র সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আন্তঃক্রিয়া। বেশিরভাগ গেমের মতো এখানেও চ্যাট ও ভয়েস ব্যবস্থা আছে। তবে এর যোগাযোগ পদ্ধতি অত্যন্ত বাস্তবধর্মী। একই গেম খেলছেন এমন দুই ব্যক্তি বাস্তব জগতে একে অপরের সামনে উপস্থিত না হলে যোগাযোগ করতে পারেন না। এমনকি বন্ধু তালিকায় যুক্ত হলেও, একে অপরের থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে না এলে কথোপকথন সম্ভব নয়। গেমের ভাষায় একে বলা হয় ‘ওয়াকি-টকি’, একদম বাস্তবের মতো।
এভাবে সীমাবদ্ধ কথোপকথন খেলোয়াড়দের বন্ধুত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। কারণ, আগে বাস্তবে দেখা না হলে বন্ধুত্ব করা যায় না, ফলে অপরিচিতির অনুভূতি দ্রুত কেটে যায়। আরও একটি বিষয়, গেমে খাদ্য পাওয়া খুব কঠিন, তাই যখনই একই গেমের কোনো খেলোয়াড়কে পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে খাদ্য বিনিময়ের সুযোগ থাকে। এতে অপরিচিতরা সহজেই নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। সে জন্যই ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’ বর্তমানে সবচেয়ে সহজে নতুন বন্ধু তৈরির মোবাইল গেম।
আর মজার ব্যাপার, বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই নারী! আমি জানি, অনেক মেয়ে এই গেম খেলতে গিয়ে বাস্তব জীবনেও প্রেমিক খুঁজে পেয়েছেন।
তাহলে এবার বলি, কেন ছেলেদের সংখ্যা কম? প্রধান কারণ, এই গেমে কোনো যুদ্ধ ব্যবস্থা নেই। পুরুষেরা মূলত প্রতিযোগিতামূলক, যুদ্ধে অংশ নিতে চায়। কোনো গেমে যদি প্রতিযোগিতার বা যুদ্ধের সুযোগ না থাকে, তাহলে ছেলেদের আকৃষ্ট করা কঠিন। ‘প্রলয়ের দৃষ্টি’ ভৌতিক গেম বলে দাবি করলেও, মূলত এটি ভয়াবহতার আবরণে মোড়ানো একটি বিনোদনমূলক গেম।
এ পর্যন্ত পড়ে নিশ্চয়ই অনেকেই গেমটি খেলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন? চিন্তা করবেন না, এখন আমি আপনাদের এই গেমের খেলার কিছু কৌশল বলছি, যা জানলে খুব সহজেই শুরু করতে পারবেন।
গেমটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হলো ‘শক্তি মান’। এটি ধীরে ধীরে কমে যায়, নতুন চরিত্রের প্রাথমিক শক্তি মান ২৪। প্রতি ঘণ্টায় ১ করে কমে, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা খেলতে পারবেন। শক্তি মান শূন্য হলে আপনার চরিত্র মারা যায় এবং সমস্ত ডাটা মুছে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে হয়।
শক্তি মান বাড়াতে হলে খাদ্য সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত একটি খাবার ৫ থেকে ১০ পর্যন্ত শক্তি মান বাড়ায়। ভাগ্য ভালো হলে একবারেই অনেক খাবার পেলে দীর্ঘ সময় খেলা যায়।
শক্তি মান ছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ‘বেঁচে থাকার মান’। টানা ২৪ ঘণ্টা মারা না গেলে ১ বাড়ে। এটি আপনার দক্ষতার পরিচায়ক। ৭ দিনের বেশি টিকে থাকলে আপনি দক্ষ খেলোয়াড় বলে বিবেচিত হবেন।
এখন বলি খাদ্য কোথায় পাওয়া যায়। বাস্তবে সুপারমার্কেট, মুদি দোকান, কনভিনিয়েন্স স্টোরে সহজেই খাদ্য মেলে। তাই এসব জায়গায় বারবার ঘোরাঘুরি করুন। এছাড়া নিজের বাড়ির রান্নাঘরও খাদ্যের উৎস, যদিও এখানে খুব কমই নতুন খাদ্য পাওয়া যায়।
বিভিন্ন রেস্তোরাঁতেও খাবার মেলে, বিশেষত খাবারের সময়ে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমার বাড়ির কাছে একটি ফাস্ট ফুড দোকান আছে, আমি প্রতিদিন যাই, ওখানে নিয়মিত নতুন খাদ্য পাওয়া যায়।
তাই বাস্তবে খেতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে গেমেও ওই রেস্তোরাঁয় খাবার খুঁজে দেখুন।
সবশেষে, যারা গেমটি খেলতে চান তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা—খাওয়ার সময় কখনো নিজেই নিজের দিকে ক্যামেরা তাক করবেন না, তাহলে ফল ভয়াবহ হতে পারে।
আজ এ পর্যন্তই, আশা করি যারা芝麻酱-এর ভক্ত তারা লাইক দিতে ভুলবেন না!
……………
চেন ছিয়ান পোস্টটি পড়ে হালকা হাসলেন, লেখককে লাইক দিলেন এবং পড়া চালিয়ে যেতে লাগলেন। এ সময় ডান দিকের নিচে নতুন একটি মেইল আসার বিজ্ঞপ্তি উঠল।
চেন ছিয়ান মেইলটির শিরোনাম দেখলেন—‘চিয়ান্দু মানচিত্র সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের ঘোষণা’।
চেন ছিয়ান মেইলটি খুলে দেখলেন, তাতে লেখা—
প্রিয় ডেভেলপার, দামী প্রযুক্তি লিমিটেড,
আপনাদের আরও উন্নততর সেবা দিতে আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এই সময়ে আপনার সেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে, দয়া করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।
চিয়ান্দু মানচিত্র
‘‘কি দেখছো?’’ তখন ইয়াং ছিং স্নান সেরে মাথা মুছতে মুছতে এগিয়ে এলেন।
‘‘একটা রক্ষণাবেক্ষণের নোটিশ,’’ চেন ছিয়ান বললেন।
ইয়াং ছিং তখন ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তিটি পড়ে ফেলেছেন। পড়া শেষ হলে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তুমি বলেছিলে চিয়ান্দু কৌশল বিভাগ থেকে আগেও লোক এসেছিল?’’
চেন ছিয়ান মাথা নাড়লেন, ‘‘হ্যাঁ, কয়েকবার এসেছিল। আমি সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছি।’’
‘‘ও!’’ ইয়াং ছিং মাথা নাড়লেন, তোয়ালেটা পাশে ফেলে চেন ছিয়ানকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলেন, ‘‘চলো এবার ঘুমোই।’’
‘‘আহ! এভাবে হাত দিও না।’’
‘‘………’’