বিয়ের আনন্দের প্রথম পর্ব

বিশ্বজয়ী বীর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক 2249শব্দ 2026-03-18 18:35:22

লীমিংফেই দেখলেন তাঁর গুরু স্বয়ং উপস্থিত হয়েছেন, সঙ্গে এনেছেন দুই তরুণকে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি লাফিয়ে উঠে গুরুজিকে অভ্যর্থনা করলেন, ‘‘গুরুজি, আপনি এসেছেন?’’ ‘‘হ্যাঁ, ফেই।’’

‘‘গুরুজি, এঁরা আপনার কে?’’ গুরু হেসে বললেন, ‘‘তোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। এই যে রঙিন পোশাক পরা তরুণ, এ হলো তোর বড়ভাই ফাং হান। সে দূর, অতি দূর নক্ষত্রলোকের বহু গ্রহের অধিপতি। আমি ওকে জানিয়েছিলাম, তুই বিয়ে করতে চলেছিস। সে তখন লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ পেরিয়ে ছুটে এসেছে, শুধুমাত্র ছোটভাইয়ের বিয়ের আনন্দে শরিক হতে। তোর বড়ভাইয়ের নিজস্ব কীর্তি—‘যুগান্তের দেবমুষ্টি’—অত্যন্ত শক্তিশালী। সময় পেলে ওর কাছ থেকে শিখে নে।’’

‘‘বড়ভাই, আপনি কষ্ট করে এসেছেন?’’
‘‘না রে, কষ্ট কিসে? আমাদের গুরু ঈশ্বরিক চিন্তায় আমাকে জানিয়েছিলেন, ছোটভাইয়ের বিয়ে, ফিরবি না? শুনেই মনে প্রবল আনন্দ। বড়ভাইয়ের এমন আনন্দঘন দিনে অনুপস্থিত থাকা চলে? তাই তো কয়েকজন ভাবীকে নিয়ে এসেছি, তোকে শুভেচ্ছা জানাতে।’’

‘‘ধন্যবাদ, বড়ভাই। আমার ভাবীরা কোথায়?’’
‘‘এখানেই তো, ভাই।’’
ফাং হান হাত বাড়াতেই, হাওয়ায় যেন চারজন অপরূপা সুন্দরী উপস্থিত হলেন। ‘‘এ হচ্ছে তোমার বড় ভাবি ফাং ছিংশুয়ে, দ্বিতীয় ভাবি ইয়ান শুইথিয়েন, তৃতীয় ভাবি লিংলং, চতুর্থ ভাবি ফেং ইয়াওগুয়াং।’’

লীমিংফেই তাঁদের চমৎকার চার ভাবির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘আপনাদের নমস্কার, ভাবিজানরা। কষ্ট করে এলেন।’’

ফাং ছিংশুয়ে বললেন, ‘‘কষ্ট কিসে? ফাং হান বলল, তুমি বিয়ে করতে চলেছ। আমরা খুব খুশি। বিয়ে তো জীবনের বড় ঘটনা, আমরা কীভাবে মিস করি?’’

‘‘ঠিক বলেছেন, ভাই।’’—আরও তিনজন ভাবিও সায় দিলেন।

গুরুজি আবার বললেন, ‘‘এ হচ্ছে তোর দ্বিতীয় গুরু ভাই ছিং ইউ, সেও লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দূরে বহু নক্ষত্রের অধিকারী।’’

‘‘দ্বিতীয় গুরু ভাই, আপনিও কষ্ট করে!’’

‘‘না, ছোটভাইয়ের বিয়ে, দূর থেকেও ফিরে আসতেই হতো।’’

‘‘ধন্যবাদ, দ্বিতীয় গুরু ভাই।’’

‘‘গুরুজি, ভাই, ভাবিজানরা, চলুন নীচে চলি।’’

তাঁরা ধীরে ধীরে মাটিতে নামলেন। নীচে অপেক্ষমাণ হোংজুন প্রবীণ তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে গুরুজিকে মাথা নত করে অভ্যর্থনা জানাতে চাইলেন। গুরু বললেন, ‘‘এত আনুষ্ঠানিকতা নয়, হোংজুন। তোমার শক্তি এই বয়সে হাঁটু গেড়ে বসার নয়।’’

হোংজুন বললেন, ‘‘মহাগুরু, আপনি কেমন আছেন?’’
‘‘ভালো, ভালো, সবাই ভালো।’’
‘‘দুই ভাইকে অভিনন্দন, লক্ষ নক্ষত্র পেরিয়ে এসেছেন, সত্যিই প্রশংসনীয়।’’
‘‘ভাই, আপনি প্রশংসা করছেন।’’
‘‘চার ভাবিকে নমস্কার। ভাবিরা আগের মতোই সুন্দর ও তরুণী।’’

‘‘ধন্যবাদ, ভাই।’’

সমস্ত দেবতা, হোংজুন প্রবীণকে দেখে ‘মহাগুরু’ বলে ডাক দিলেন। এতসব সর্বোচ্চ দেবতারাও তাড়াতাড়ি হাঁটু গেড়ে বসতে চাইলেন, কিন্তু গুরু বললেন, ‘‘থেমে যাও।’’ যেন অদৃশ্য শক্তিতে তাঁরা আর ঝুঁকতে পারলেন না।

লীমিংফেই বললেন, ‘‘গুরুজি, আপনি আসন গ্রহণ করুন।’’

‘‘ঠিক আছে, আমি আর সংকোচ করছি না। এখানে আমারই বয়স সবচেয়ে বেশি।’’
‘‘এটাই উচিত, মহাগুরু।’’

সব অতিথিরা দেখলেন, এত দেব, মহাত্মা—সবাই উপস্থিত, কারও কারও মুখে কথাই ফুটছে না উত্তেজনায়। ফাং লি দেখলেন গুরুজিকে উপবিষ্ট, তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে বললেন, ‘‘গুরু ঠাকুরদাদা, আমার দাদু এলেন না কেন?’’

‘‘ওহ, ফাং লি! তোমার দাদু বিদেশের নক্ষত্রলোকে ঘুরতে গিয়ে এক দেবীর প্রেমে পড়েছেন, এখন তাঁরা মধুচন্দ্রিমা কাটাচ্ছেন। তোমার আরও এক সুন্দরী ঠাকুমা হয়েছে, হয়তো ভবিষ্যতে তোমার চেয়ে কম বয়সী কাকাও পেতে পারো। মিংফেইয়ের বিয়ের কথা ওঁকে জানাইনি, তাই জানেন না।’’

‘‘ঠিক আছে, দাদুর কথা নিয়ে ভাবনা নেই। দেবতাদের জীবন অসীম, নিজের পছন্দের সঙ্গী খোঁজাই স্বাভাবিক।’’

‘‘তুই একদম ঠিক বলেছিস, ফাং লি। আমার পাশে বসে পড়।’’
‘‘ধন্যবাদ, গুরু ঠাকুরদাদা।’’

এভাবে দেবতারা হাসি-আনন্দে গল্প করছিলেন, হঠাৎ বাজি ফাটার শব্দ শুনলেন। উচ্চস্বরে মাইকে এক তরুণীর কণ্ঠ, পরিষ্কার ভাষায়—
‘‘প্রিয় আত্মীয়-বন্ধুগণ, দাদু-দিদা, কাকা-কাকিমা, ভাইবোন, সন্মানিত অতিথিবৃন্দ, সবাইকে আন্তরিক স্বাগতম। আমি লীমিংফেইয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগত জানাই। শুভ লগ্ন এসে গেছে, এবার বর ও কনেকে আমন্ত্রণ জানাই, তারা যেন দেবতা ও ধরিত্রীকে প্রণাম করেন। অতিথিদের অনুরোধ, আপনারা বর-কনের জন্য প্রস্তুত করা উপহার হাতে রাখুন, তাঁরা প্রণাম করতে এলে উপহার তুলে দিন, এতে আপনার সম্মানও বাড়বে।’’

বাজি ছ'বার উচ্চস্বরে ফাটল, বিয়ের উৎসব শুরু।
‘‘এবার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে লীমিংফেই ও তাঁর দুই দেবী পত্নীকে, দেবতা ও ধরিত্রীকে প্রণাম করার জন্য।’’

এসময় লীমিংফেই পরেছেন উজ্জ্বল লাল পোশাক, মাথায় কালো টুপি, অপূর্ব সুদর্শন। দুই নববধূও লাল পোশাকে, যেন দশগুণ সুন্দর। যদি ঝাওজুন বা ইয়ুহুয়ান উপস্থিত থাকতেন, তাঁরাও লজ্জায় মাথা নিচু করতেন।

‘‘বর-কনে সবাই প্রস্তুত? তিনজন একসঙ্গে দাঁড়াও।’’

আবার ছয়বার বাজির শব্দ।
‘‘প্রথমে দেবতা ও ধরিত্রীকে প্রণাম, পরে পিতৃপুরুষকে, শেষে একে অপরকে। প্রণাম শেষ।’’

‘‘এবার আমন্ত্রণ, লীমিংফেইয়ের গুরুদেব মঞ্চে আসুন, নবদম্পতির কাছ থেকে প্রণাম নিন।’’

গুরুজি ডাক শুনে উঠে দাঁড়ালেন, মঞ্চে এলেন। বর-কনে প্রণাম করল। প্রণাম শেষ।
গুরুজি হাতে করলেন একটি সাধারণ পাথর, মুষ্টির মতো বড়।
‘‘এই পাথর তোমাদের উপহার দিলাম। এর আকার ইচ্ছেমতো বড় বা ছোট করা যায়। সবচেয়ে বড় হলে পঞ্চাশ হাজার কোটি আলোকবর্ষ বিস্তৃত, ছোট হলে ধূলিকণার মতো। ছোট হলেও ভিতরে একই বিস্তৃত স্থান, অসংখ্য গ্রহ ধারণ করতে পারে, এমনকি শক্তিশালী যেকোনো সত্তাকেও। এই পাথর সাধারণ নয়, আমার সঙ্গে পাঁচ হাজার কোটি বছর ধরে আছে, নাম ত্রিসংসার পাথর।’’

‘‘ওহ, পাঁচ হাজার কোটি বছর! কী বিস্ময়!’’
চারপাশের সাধারণ মানুষ বিস্ময়ে ফিসফিস করতে লাগল।
‘‘অবিশ্বাস্য! এই দেবতা তো অতুলনীয়, লীমিংফেই সত্যিই ভাগ্যবান। অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সবই এই পাথরে প্রকাশিত হতে পারে!’’

‘‘ত্রিসংসার পাথর আমি পাঁচ হাজার কোটি বছর ধরে লক্ষ্য করেছি। অনেক আগে, তোমাদের তিনজনের ভাগ্য জুড়ে গিয়েছিল—(তবে সুসু অন্যায় দমন করতে আগেভাগে নেমেছিল)—এভাবেই অনন্তকাল একসঙ্গে থাকবে।
ত্রিসংসার পাথর এক প্রতাপশালী অলৌকিক বস্তু, বিপদের সময় তোমাকে ভবিষ্যতে বা অতীতে নিয়ে যেতে পারবে। অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের মাঝে ইচ্ছেমতো চলাফেরা করা যাবে। তবে আমি চাই, কখনও যেন তোমাদের এই পাথরের দরকারই না পড়ে।’’

লীমিংফেই পাথরটি নিয়ে বলল, ‘‘ধন্যবাদ, গুরুজি।’’
‘‘আমি তোমাদের নতুন জীবনের জন্য আশীর্বাদ করি।’’

‘‘এবার আমন্ত্রণ, যুগান্ত গোষ্ঠীর প্রধান ফাং হানকে।’’
ফাং হানও এগিয়ে এসে প্রণাম করলেন। তারপর বললেন,
‘‘মিংফেই, তোমার জন্য আমার উপহার—যুগান্ত গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠ বিদ্যা, যুগান্তের দেবমুষ্টি শিক্ষা পদ্ধতি।’’
‘‘এ যে বিরাট উপহার! ধন্যবাদ, বড়ভাই। আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ।’’

‘‘ছোটভাই ও ভাবিদের চিরদিনের মঙ্গল কামনা করি।’’

‘‘এবার আমন্ত্রণ, দ্বিতীয় গুরু ভাই ছিং ইউ।’’

উৎসবের বর্ণনা এখানেই শেষ হচ্ছে, আরও চমৎকার ঘটনা আসছে...

সবাইকে অনুরোধ, আপনার আত্মীয়-বন্ধুদের এই গল্প পড়তে বলুন, আনন্দ ভাগাভাগি করুন। আরও বেশি বেশি সুপারিশ, সংগ্রহ করুন, কেউ যদি উপহার দেন বা উৎসাহ দেন, কৃতজ্ঞ থাকব। ধন্যবাদ!