ষাটষষ্ঠ অধ্যায়: রাজকীয় একাডেমির শ্রেষ্ঠত্ব নির্বাচনী প্রতিযোগিতা
চলো ফেইফেই, আমরা গিয়ে নাম লেখাই।
ঠিক আছে, চল।
লিমিং ফেই ও লিউ ফেইফেই রাজপ্রাসাদের কেন্দ্রীয় শিক্ষাভবনের দিকে উড়তে উড়তে রওনা দিল। খুব বেশি সময় লাগল না, তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষাভবনে পৌঁছে গেল। শিক্ষাভবনের সামনে বিশাল এক চত্বর, চারপাশে বহুস্তর বিশিষ্ট গ্যালারি রয়েছে যেখানে লাখ লাখ মানুষ বসতে পারে।
লিমিং ফেই ও লিউ ফেইফেই যখন এসে পৌঁছাল, তখন সেখানে মানুষের ঢল নেমেছে। লিমিং ফেই তার অলৌকিক দৃষ্টিশক্তি খুলে চারপাশে তাকাল, দেখে সবই দেবতাতুল্য মহাশক্তিধর仙মানব, স্বর্ণকোষ স্তরেরও কিছু আছে, তবে খুব বেশি নয়, তারা সবাই বাইরেই দাঁড়িয়ে, সাহস হয়নি সামনের সারিতে আসার। এমন শক্তিধর স্বর্ণকোষেরা কেবল দৃশ্য উপভোগ করতেই এসেছে; এমন উচ্চপর্যায়ের প্রতিযোগিতায় লড়ার সাহস তাদের নেই।
লিমিং ফেই ও লিউ ফেইফেই যখন দেবতাদের ভিড়ে পৌঁছাল, সবাই ক্ষিপ্ত চোখে লিমিং ফেইকে দেখতে লাগল। তাদের মধ্যে একজন মুখশ্রীতে কুৎসিত তরুণ এগিয়ে এসে বলল, ‘‘ফেইফেই, তুমি এসেছো, আমি অনেকক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।’’
‘‘ফেইফেই, এই ছেলেটা কে? সে কীভাবে তোমার পাশে দাঁড়াতে সাহস পায়? সে কি বাঁচতে চায় না?’’
‘‘তুমি কে যে আমার ব্যাপারে কথা বলো? তুমি নিজেকে কী ভাবো? শোনো, বৃহৎ সূর্য দেবতা, আজ থেকে তুমি আর আমাকে বিরক্ত করবে না। সত্যি কথা বলি, ওর নাম লিমিং ফেই, সে আমার স্বামী। তোমাদের মধ্যে যারা আমার জন্য আশায় ছিলে, আজই সে আশা ত্যাগ করো।’’
লিউ ফেইফেইর এই কথায় আশি শতাংশ তরুণের মন ভেঙে গেল।
‘‘কি! সে তোমার স্বামী? ফেইফেই, আমি তো হাজার হাজার বছর ধরে তোমাকে অনুসরণ করছি, অথচ তোমার হাতে ছোঁয়াও দিইনি। এই ছেলে যে কিনা কেবল স্বর্ণকোষের পর্যায়ে, তুমি তার নিচে নত হয়েছো? আমি এটা মানতে পারছি না, সে তো তোমার যোগ্য নয়। ফেইফেই, তুমি আমাকে বৃহৎ সূর্য দেবতা হিসেবে সমাজে মুখ দেখাতে কীভাবে দেবে?’’
এই তরুণের সঙ্গে সঙ্গে অনেক仙মানব চেঁচিয়ে উঠল, ‘‘এটা মানা যায় না! আমিও তো লিউ ফেইফেইকে হাজার বছর ধরে ভালোবাসি, আমি মেনে নেব না।’’
সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই নিজেদের দাবি জানাতে লাগল।
‘‘আমার প্রস্তাব, আমরা সবাই মিলে লিমিং ফেইকে শেষ করে দিই, তবেই তো আবার আমরা সবাই ফেইফেইর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব। অন্তত আমরা দেবতাতুল্য, স্বর্ণকোষের মতো সাধারণ কেউ ফেইফেইর পাশে থাকার যোগ্য নয়।’’
‘‘সঠিক কথা! আমি ঠান্ডা বরফের মতামত সমর্থন করি!’’
সঙ্গে সঙ্গে অনেকে চিৎকার করতে লাগল—লিমিং ফেইকে শেষ করে লিউ ফেইফেইর হৃদয় পুনরায় জেতা হোক।
এ সময় লিমিং ফেই বলল, ‘‘তোমরা সাহস কত বড়! আমায় মেরে ফেলার কথা বলো, যদিও আমি এখনো স্বর্ণকোষ স্তরে, কিন্তু তোমাদের কি সেই সাধ্য আছে? এখন বেশি কিছু বলছি না, মঞ্চে দেখা হবে, সেখানকার যুদ্ধই ফয়সালা করবে, কে কার ভাগ্যে বেঁচে থাকে। যে আমায় মারতে চায়, সে প্রস্তুত থাক, আমি তোমাদের এমনভাবে শেষ করব, দেহটুকুও খুঁজে পাবে না।’’
‘‘তুই বেশি অহংকার করিস না, তরুণ। এখন তো রাজকন্যা তোকে রক্ষা করছে, কিন্তু চাইলে তোকে মারতেও পারি, তাও আবার আজকের দিনেই তোর মৃত্যুবার্ষিকী হয়ে যেতে পারে। তবে ন্যায়ের জন্য তোকে তিন দিন সময় দিলাম, মঞ্চে দেখা হবে, তখন কেউ তোকে বাঁচাতে পারবে না, যে পরিশ্রম করবে না, সে মরবে। তখন তোকে এমনভাবে পরাজিত করব, তুই নিজেও মানতে বাধ্য হবি।’’
‘‘ঠিক কথা, এই সামান্য স্বর্ণকোষের ছেলের এত বড় কথা! পূর্বজদের অসম্মান করা বড় অপরাধ। এখানে এত দেবতা উপস্থিত, তোকে একে একে নমস্কার করাই উচিত ছিল, তুই তো উল্টো বাজে কথা বলছিস! তোকে তো বাঁচানো যাবে না, লিমিং ফেই।’’
‘‘ঠিক আছে, আর কথা নয়, সাহস থাকলে মঞ্চে প্রমাণ দাও। যদি লিমিং ফেইকে কেউ হারায়, তবে সে নিজেই দুর্বল, তার কপালেই মৃত্যু ছিল, সবাই নাম লেখাও।’’
‘‘ঠিক ঠিক, আগে নাম লেখা দরকার।’’
লিউ ফেইফেইর কয়েকটি কথায় দেবতারা আপাতত চুপ করে গেল, ঠিক করল মঞ্চেই লিমিং ফেইকে হারাবে, মনের কষ্ট মেটাবে।
এ সময় বড় ভাই ঘোষণা করল, ‘‘আমাদের রাজকীয় বিদ্যালয় লিউ তিয়ানজুন স্বয়ং প্রধান শিষ্য বেছে নেবেন—মেঘের মাঝে চাঁদ, আগে নাম লেখাও।’’
লিমিং ফেই বলল, ‘‘একটু দাঁড়াও, আমার নাম আগে লেখো।’’
‘‘তুই কে? এক স্বর্ণকোষের ছেলে, আমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করিস? তোর সাহস তো দেখছি!’’
‘‘তুমি আমায় গালি দাও কেন? মঞ্চে প্রথমেই তোকে শেষ করব। আরেকটি কথা, আমি তোমার এই আচরণ সহ্য করতে পারি না। তুমি বড় শিষ্য বলেই কি সব করতে পারো? আমি তো রাজকন্যার বর, আমারও অধিকার আছে। রাজপরিবারের অপমান করলে, তুমি কি তিয়ানজুনকেও ভয় পাও না? বিদ্রোহ করতে চাও?’’
‘‘তুই, তুই, তুই এই কথা আমার ঘাড়ে চাপাচ্ছিস? আমি তোকে ছাড়ব না, মঞ্চে তোকে টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দেব, আমি মেঘের মাঝে চাঁদ, এই প্রতিজ্ঞা করছি।’’
‘‘তোর এই নাম শুনে হাসিই পায়! এখানে কে দায়িত্বে?’’
‘‘আমি, মহারাজাধিরাজ, আপনাকে স্বাগত।’’
‘‘ভালো, খুব ভালো! আমার নাম প্রথমে লেখো।’’
‘‘জি, মহারাজাধিরাজ, সাথে সাথে লিখছি।’’
এই ব্যক্তি মনে মনে গজগজ করতে থাকল, ‘‘একটা স্বর্ণকোষের ছেলে, একটু সুন্দর চেহারা হলেই কী, কে জানে কোন হাত ধরে রাজকন্যাকে পেয়েছে। তবে মুখে হাসি ধরে রাখল, প্রশংসা করতে করতে লিমিং ফেইর নাম লিখল—প্রথম নাম: মহারাজাধিরাজ লিমিং ফেই।’’
‘‘পরেরজন?’’
‘‘আমি, মেঘের মাঝে চাঁদ।’’
এভাবে নাম লেখানো চলতে থাকল, তিন দিন পেরিয়ে গেল। এখানে পাঁচ লক্ষেরও বেশি শিষ্য নাম লেখাল। অনেকে নিজেদের দুর্বল মনে করে, দেবতাদের সামনে দাঁড়াতে সাহস পেল না, তারা কেবল আনন্দ দেখতেই এসেছিল।
লিমিং ফেই ও লিউ ফেইফেই রাজকীয় বিদ্যালয়ের চারপাশ ঘুরতে লাগল, তিন দিন ধরে তারা হাঁটতে হাঁটতে যেখানে সুন্দর দৃশ্য দেখত, থেমে উপভোগ করত। পুরো বিদ্যালয়ের দশ ভাগের এক ভাগও ঘোরা শেষ হয়নি।
চতুর্থ দিনে তারা আবার প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরে এলো। সেখানে তখন উপচে পড়া ভিড়, বহু仙মানবের বসার জায়গা নেই, তারা জাদুবলে বাতাসে ভেসে নিচে তাকিয়ে দেখছে।
‘‘এত মানুষ, ফেইফেই? আমাদের বসার জায়গা আছে তো?’’
‘‘চিন্তা করো না, ফেইএর। আমরা রাজপরিবারের কর্তা, আমাদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষিত আছে। আরও আছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যক্ষ ও শক্তিশালী仙মানব বিচারক হিসেবে।’’
‘‘ও, আসন থাকলেই হলো, তাহলে আরাম করে উপভোগ করা যাবে। আমি শেষের দিকে মঞ্চে যাব, যারা আমাকে অপমান করেছে, তাদের সবাইকে শেষ করব।’’
‘‘আমি তোমার পাশে আছি, ফেইএর।’’
আপনার প্রতিটি ক্লিক, সুপারিশ, সংরক্ষণ ও মন্তব্যই আমার জন্য সর্বোচ্চ সমর্থন।