তিন কারও কথা কানে তোলে না
আবারও একটি দিন কেটে গেল, এবং রাতও।
ফের আগুন জ্বলছে, তবে আজ আর কোনো মণ্ডা নেই।
আগুনের ওপর কয়েকটি পাথর দিয়ে ছোট্ট এক চুলা বানানো হয়েছে, সেখানে আধা মাটির হাঁড়ি ফুটছে, ভেতরের মোটা চালগুলো গরম ভাপে উথলে উঠছে।
আজ একটা ছোট্ট গ্রাম পার হয়ে যেতে যেতে চুংবা ভিক্ষা করে একবাটি মোটা চাল জোগাড় করেছে।
পেটটা গরগর করে ওঠে...
ঝু জিউ আগুনের পাশে বসে হাঁড়িটার দিকে লোভাতুর চোখে তাকিয়ে আছে, পেটটা তার নিজের ইচ্ছেমতো ডাকছে।
‘‘ক্ষুধা লাগলে খাও!’’
অগ্নিকুণ্ডের ওপারে চুংবা আগুনের আলোয় মাথা নিচু করে ব্যস্ত।
‘‘ভাই, তুমি আগে খাও!’’ ঝু জিউ লালা গিলে বলল।
চুংবা মাথা তুলে হাসল, হাতে গতি বাড়িয়ে বলল, ‘‘হয়ে গেছে!’’ বলেই একটা কালো ছায়া ছুড়ে দিল, ‘‘পরো!’’
‘‘ঘাসের জুতো?’’
ঝু জিউর কোনো জুতো নেই, তার পায়ের তলায় বহুদিনের জমে থাকা কাদাই তার একমাত্র জুতো।
কিন্তু সত্যিকারের জুতো তো নয়, দু’দিন হেঁটে তার পা ফেটে গেছে, জায়গায় জায়গায় ক্ষত।
এখন এই একজোড়া ঘাসের জুতো তার কাছে অমূল্য সম্পদ, তাড়াতাড়ি পরে নিল।
ঠান্ডায় যন্ত্রণাকাতর পা, মুহূর্তেই অস্পষ্ট উষ্ণতায় বেঁধে গেল।
‘‘পুরুষের দুইটা জিনিস ভাল হওয়া চাই—একটা পা, একটা পুরুষাঙ্গ, উফ!’’
চুংবা গরমে হাত পুড়িয়ে হাঁড়িটা পাশে সরিয়ে রাখল, ‘‘ঠান্ডা হলে খাস, পায়ে ঠিকমতো বসলো তো?’’
‘‘ঠিক আছে!’’ ঝু জিউ খুশিতে মুচকি হাসল, চোখ টিপে বলল, ‘‘ভাই, তুমি এ জুতো বুনতে পারো কীভাবে? তোমার হাত কতো নিপুণ!’’
‘‘আমি হুয়াইসি অঞ্চলে ভিক্ষা করেছি তিন বছর, যা শেখার দরকার সব শিখেছি, না হলে কবেই মরতাম না খেয়ে!’’
চুংবা আবার পোটলা থেকে একটা পুরনো ভিক্ষুর পোশাক বের করল।
ঝু জিউর সামনে বাড়িয়ে দিল, ‘‘পরো!’’
জুতো দিল, আবার কাপড়ও দিল?
আগুনের আলোয় ঝু জিউর চোখে জল জমে উঠল।
সে চুপ করে আছে দেখে চুংবা ভুরু কুঁচকে উঠল, ‘‘হিচকাচাচ্ছিস কেন, আমি বলতে তো পরো?’’
‘‘ধন্যবাদ ভাই!’’
ঝু জিউ কাপড়টা নিয়ে, কয়েক টানে গায়ের ছেঁড়া কাপড় খুলে ফেলে, অস্থি-সর্বস্ব শরীরটা নগ্ন হয়ে পড়ল।
এ যুগে বেঁচে থাকাটাই সৌভাগ্য, ভেতরের পোশাকের কথা ভাবাও যায় না।
‘‘ওহো, মালটা ছোট না!’’ চুংবা দেখে হেসে উঠল।
কাপড়টা পুরনো, জায়গায় জায়গায় প্যাঁচ, বহু বছর ধরে পরা, তবু পরিষ্কার, গায়ে দিলে নরম লাগে, যেন হৃদয়ের মতো কোমল।
‘‘ঠিক আছে, ঠিকঠাক তো?’’
চুংবা ভালো করে ঝু জিউকে দেখে নিল, ‘‘বসো, নড়ো না!’’, বলে পাশে গিয়ে ছোট্ট ছুরি বের করল।
‘‘ভাই, কী করবে?’’
‘‘চুল কাটব!’’ চুংবা কোনো কথা না শুনে ঝু জিউর মাথা ধরে ছুরি চালাল, ঝাঁকড়া চুল মাটিতে পড়তে থাকল।
‘‘দেখো, মাথায় কতো উকুন!’’ চুংবা ছোট্ট পোকা মেরে ফেলল, কাটতে কাটতে বলল, ‘‘সবচেয়ে দেরিতে কাল দুপুরেই হাওঝৌ পৌঁছে যাব, আমরা তো সৈন্য হতে যাচ্ছি, পোশাক যেমন-তেমন হোক, অন্তত পরিষ্কার চাই, নোংরা থাকলে সবাই অপমান করবে, মাথা নিচু করো!’’
এক চড় দিয়ে মাথা নিচু করাল।
চুংবা ছুরি পাথরে ঘষল, ‘‘নড়ো না, আমি সোজা কামিয়ে দিচ্ছি।’’
সসস...
মাথার খুলিতে ঘষাঘষির শব্দ, কে জানে আগুনের উষ্ণতা, না অন্য কিছু, ঝু জিউর অন্তর গরম হয়ে উঠল।
সে খুব চাইছিল মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাতে, ঐ ওপরে যিনি আছেন, তাকে বলতে—
‘‘ভাইরে আকাশ, তুমি আমার প্রতি কম করো নি। সংকটকালে চুংবা-র সঙ্গে দেখা, অজানা মানুষ, অথচ মানুষটা আমার প্রতি খুব ভালো!’’
‘‘হয়ে গেছে!’’
চুংবা ঝু জিউর মাথায় টোকা দিল।
ঝু জিউ মসৃণ মাথা ছুঁয়ে মুখ ফস্কে বলল, ‘‘ভাই, তুমি আমার প্রতি সত্যিই খুব ভালো!’’
ভাতের হাঁড়ি তুলতে তুলতে চুংবা হাসল, ‘‘তুমি আমাকে ভাই বলো, আমি তোমাকে ছোট ভাই ডাকি, দুজনেই ঝু, আমি ভালো না হলে চলবে?’’
‘‘ভাই, জানো? আগে এক সম্রাটও ঘাসের জুতো বুনতেন!’’
চুংবা পাশের বসে জিজ্ঞেস করল, ‘‘কে?’’, আর ঝু জিউর বাটিতে আধা হাঁড়ি ভাত ঢেলে দিল।
‘‘ত্রিকালের শু হান রাজা লিউ, সেই লিউ বে!’’ ঝু জিউ বিন্দুমাত্র সংকোচ না করে খেতে লাগল।
চুংবা থমকে গেল, ‘‘লিউ রাজা? ওহে, বাজে কথা! মানুষটা তো চাটাই বুনত, ঘাসের জুতো নয়!’’
ভুল হলো? ঝু জিউ অপ্রস্তুত, ‘‘একই তো, ঘাসের জুতো আর চাটাই একই জিনিস, আর লিউ রাজা আর তোমার মধ্যে অনেক মিল!’’
‘‘আমার সঙ্গে কী মিল?’’ চুংবা ছোট চুমুকে ভাত খেল, হাসল।
দুই চুমুকেই একবাটি ভাত শেষ, ঝু জিউ মুখ না মুছে কথা শুরু করল—
‘‘নৈতিকতা! লিউ রাজাও ভাইদের ভালোবাসত, যেমন গুয়ান আর ঝাং ফেইকে, তাদের কত ভালোবাসত!’’
বলতে বলতে, হঠাৎ যেন কিছু আবিষ্কার করল, ছোট্ট চোখদুটো বিস্ফারিত—
‘‘ওহ, আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম!’’
‘‘এত চমকাচ্ছিস কেন, বল!’’
ঝু জিউ লালা গিলে বলল, ‘‘ভাই, দেখো! লিউ রাজা ভাইদের ভালোবাসত, তুমিও ভাইদের ভালোবাসো।
লিউ রাজা ঘাসের জুতো বুনতে জানতেন, তুমিও জানো, তাই তো?’’
চুংবা শেষ চুমুকে ভাত খেল, মাথা ঝাঁকাল।
ঝু জিউ চটাং করে উরুতে চড় মেরে বলল—
‘‘ভাই, লিউ রাজা শেষে সম্রাট হয়েছিলেন, তাহলে তুমি কি ভবিষ্যতে রাজা হবে না?’’
ঝু জিউর মুখে বাড়াবাড়ি হাসি, মুখ হাঁ হয়ে গেছে, ‘‘ও মা, আকাশ! ভাই, তুমি তো ভবিষ্যতে...’’
‘‘বাজে কথা!’’ চুংবা ঝু জিউর মাথায় টোকা দিল, তবে ঝু জিউ খেয়াল করল, এ মুহূর্তে চুংবার চোখ ঝলমল করছে।
‘‘ভাই, যদি কখনো তুমি রাজা হও, আমাকে কী দেবে?’’ ঝু জিউ ছাড়ে না, ‘‘কোনো বাইরের লোক নেই, বলো তো!’’
চুংবা দুই হাত মাথার নিচে দিয়ে শুয়ে আকাশের দিকে চেয়ে হাসল, ‘‘আমি...তোমাকে রাজা বানাব!’’
ঝু জিউ মাথা চুলকে বলল, ‘‘ভাই, ‘বানাব’ বাদ দাও!’’
‘‘যাহ্, ঘুমা!’’ চুংবা হেসে গালি দিল, ‘‘খেয়ে ঘুমা, কাল সকালে আবার হাঁটতে হবে!’’
‘‘আমি তোমার কাছ থেকে রাজপদ চাই না!’’ ঝু জিউ চুংবার গায়ে হেলান দিয়ে শুয়ে, পাশে তাকিয়ে বলল, ‘‘তুমি যদি রাজা হও, আমাকে সেই ‘মৃত্যুমুক্ত তাম্রপত্র’ দিও, নাটকে যেমন থাকে, যা পেলে যত ভুলই করি কিচ্ছু হবে না!’’
‘‘ঠিক আছে!’’ চুংবা বিরক্ত হয়ে বলল, ‘‘আমি শুধু তোমাকে নয়, তোমার বংশধরদেরও সেই মৃত্যু-দণ্ডমুক্তির অধিকার দেব, এবার তো হলো! ঘুমা!’’
‘‘তুমি বলেছ, হাত দাও!’’
‘‘যাহ্, ঘুমা!’’
রাতের বাতাসে দু’জনের হাসি-কথা চলতে থাকে।
কিন্তু ঝু জিউ জানে, ওটা নিছক হাসিঠাট্টা নয়, সে সত্যিই চায়।
‘‘আবারও একদিন অভিনয় করলাম, উচ্চারণে কোনো ভুল নেই, চরিত্রেও নয়, নিখুঁত!’’
ভাবতে ভাবতে ঝু জিউ চোখ বন্ধ করল।
‘‘সত্যি সাহস, আমি কি রাজা হতে পারি!’’
মনের মধ্যে ভাবতে ভাবতেই চুংবার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
রাত গভীর হতে থাকে, চারপাশ নিস্তব্ধ।
আবারও একদিন, আবারও পথ চলা।
বসন্তের রোদ্দুর খুব একটা তীব্র নয়, দুইজন পাশাপাশি হাঁটছে, কতক্ষণ কেটেছে কে জানে, চোখের সামনে এক শহর দেখা গেল।
শহরটা একটু পুরোনো, প্রাচীরজুড়ে দাগ, মাথার ওপর উড়ছে বড় পতাকা, তাতে বড় বড় চার অক্ষর—
স্বর্গের আদেশে ন্যায়ের পথে!
আহা রে, ঠিক যেন লিয়াংশান!
ঝু জিউ চুংবার দিকে তাকিয়ে হাসল, ‘‘ভাই, এখানেই তো?’’
‘‘এসে গেছি!’’ চুংবা কপালের ঘাম মুছে বলল, ‘‘চলো, শহরে ঢুকি!’’
রোদ্দুরে দু’জনের ছায়া, বড় আর ছোট, চলার ক্লান্তি নেই, বরং ভেতরটা দৃঢ়।
‘‘ভাই, তুমি বলো, ওরা কি আমাদের নেবে?’’
‘‘আমার বিশ্বাস আছে!’’ চুংবা নিজের বুক চাপড়ে হাসল, ‘‘আমার এক ভাই আছে, তার নাম তাং হে, অনেক দিন হলো লালপাগড়ি বাহিনীতে যোগ দিয়েছে, এখন হাজার-প্রধান!’’
‘‘নাম কী?’’
‘‘তাং হে!’’
‘‘তোমার ভাই, তাকেও তো ভাই ডাকতে হবে!’’
আমি জানি সে ভাই, ঝু জিউ মনে মনে বলল, শুধু তা-ই নয়, আমি তোমার অন্য ভাইদেরও চিনি—
শু দা, চাং ইউ ছুন, এমন কি তোমার স্ত্রী মা শিউ ইং, আরও অনেক কিছু জানি।
ধীরে ধীরে, শহরের ফটক সামনে চলে এল।
ঝু জিউ গায়ে বড় ভিক্ষুর পোশাকটা ভালো করে জড়িয়ে নিল, নতুন জীবন দরজার ওপারে।
কিন্তু নতুন জীবন হাতছানি দেয়নি, বরং সামনে এসে দাঁড়াল বিপদ।
‘‘ওই দাঁড়াও!’’
‘‘কী ব্যাপার?’’
একজন লম্বা আর ছোটখাটো, দুইজন লোক রাস্তায় বাধা দিল।
লম্বার চোখ বাঁকা, মুখে কড়াকড়ি ভাব। ছোটটার চোখ চকচক করছে, গলার স্বর কর্কশ।
এদের চেহারা দেখেই বোঝা যায় ভালো লোক নয়।
গা দুলিয়ে হাঁটে, কাঁধ বাঁকা।
গায়ে চামড়ার বর্ম, কোমরে তলোয়ার, সবই তাদের অকার্যকারিতা প্রকাশ করে।
‘‘দুই ভাই, আমরা সৈন্য হতে শহরে ঢুকব!’’ চুংবা সাদাসিধে হাসল।
‘‘হ্যাঁ, আমরা লালপাগড়ি বাহিনীতে যোগ দিচ্ছি!’’ ঝু জিউ যোগ করল।
‘‘সৈন্য হতে? তোমরা দু’জন?’’
ছোটটা ছোট চোখে দু’জনকে খুঁটিয়ে দেখল, নজর তাদের টাক মাথার ওপর।
‘‘ভিক্ষু? হুঁ!’’ বলেই লম্বার দিকে তাকাল, ঠোঁটে ঠাট্টা, ‘‘ভিক্ষু হলে মন্দিরে থাকো, সৈন্য হতে এসেছ, চর্বি বেশি খেয়েছ নাকি?’’
‘‘ও ভাই, কী বলছ, আমরা সত্যিই সৈন্য হতে এসেছি...এই, কী করছ?’’
আসলে, চুংবা কথা বলার সময় ছোটটার হাত ধরা পড়ে তার পোটলায়, চুংবা তাড়াতাড়ি পিছু হটে।
‘‘কী করব?’’ ছোটটা গলা চড়িয়ে চেঁচাল, ‘‘লুট করছি, বুঝলে?’’
‘‘লুট নয়!’’ লম্বা এবার কথা বলল, ‘‘তল্লাশি!’’
‘‘হ্যাঁ, তল্লাশি!’’ ছোটটা চেঁচাল, ‘‘গায়ে যা দামী আছে বের করো!’’
‘‘আমার কাছে কী দামী জিনিস আছে? আমি সত্যিই সৈন্য হতে এসেছি। বিশ্বাস করো? আমার কাছে চিঠি আছে, আমার ভাইও লালপাগড়ি বাহিনীর... এই, হাত দিও না, কথা শুনে শান্তিতে বলছি, শুনছ না?’’
দু’জন বুঝে নিয়েছে চুংবার পোটলায় কিছু আছে, একজন সামনে, একজন পেছনে এসে টানাটানি শুরু করল।
আমি...ধুর!
এটা লালপাগড়ি বাহিনী?
এ তো একেবারে প্রকাশ্যে ডাকাতি!
আর ডাকাতি করছে চুংবার সঙ্গে?
এই দুইজন যদি বেঁচে থাকে, সেই গল্প চিং রাজবংশ পর্যন্ত চলবে।
‘‘ছাড়ো আমার পোটলা!’’
‘‘হাত ছেড়ো!’’
‘‘আমাদের সঙ্গে লালপাগড়ি বাহিনীর বিরোধিতা? বাঁচতে চাও না?’’
তিনজনের টানাটানিতে হাতের কাজ বাড়তে লাগল।
ঝু চুংবা, মারো না তাদের?
ঝু জিউ আর সহ্য করতে পারল না, চুপিচুপি এগিয়ে ভিক্ষার লাঠি তুলে ধরল।
‘‘ওরে...ধুর!’’
বুম!
লম্বা লোকটা চুংবার বাহু ধরে টানছিল, হঠাৎ ঘাড় গুটিয়ে নিল।
তারপর মাথা চেপে ধরে ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল, চোখ বড় বড় করে দেখল কার কাজ।
ঝু জিউ দুই হাতে লাঠি ধরে কাঁপছে, যেন কাঁটা-ওয়ালা শুয়োর।
একই সময়ে চুংবা গালাগালি দিল—
‘‘তোর পুর্বপুরুষকে...!’’
লোহার মতো হাত ছোটটার কলার চেপে ধরে কাঁধের ওপর ছুড়ে ফেলল।
‘‘ও মা!’’
ছোটটা আর উঠতে পারল না।
লম্বা লোকটা ঝু জিউকে ফেলে রেখে ঘুরে তাকাল।
‘‘ওরে...ধুর!’’
বুম, আবার লাঠির বাড়ি।
‘‘তোর...!’’
লম্বা ফের ঘুরে মাথা চেপে ধরল।
চড়, লম্বার গালে, সে জায়গায় দাঁড়িয়ে ঘুরতে লাগল, চোখে তারা, নাকে রক্ত।
‘‘কাকে বলছ?’’
চুংবা ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিল।
‘‘বললাম তো, আমরা দুই ভাই সৈন্য হতে এসেছি, কথা শোনো না?’’
বলেই ঝু জিউর দিকে তাকাল, ‘‘ভাই, মারলে, কেন একটা বাড়িতে শেষ করলে না? খেয়েছ না?’’
গড়গড়...
ঝু জিউর পেটই উত্তর দিল।
চুংবা মাথা নাড়ল, বুক থেকে চিঠি বের করে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া দু’জনকে দেখিয়ে বলল, ‘‘এখন ভালো করে শোনো, আমার ভাই তাং হে...এই, শোন!’’
লম্বা আর ছোট দুই লালপাগড়ি সৈন্য দৌড়ে পালাল।
‘‘আয় কেউ, এখানে গুপ্তচর, সরকারী গুপ্তচর!’’