আমি জন্মেছিলাম সেই দিনে, যেটি প্রচলিত ভূত চতুর্দশী হিসেবে পরিচিত। সেদিন সকালটা ছিল ঝকঝকে পরিষ্কার, কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে, বজ্রধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়। আমার পিঠে ছিল একটি সাদা দাগ, যা ঠিক যেন একটি সাদা সাপের মতো প্যাঁচিয়ে ছিল। আমার মা সেদিন ঘটনাস্থলেই আতঙ্কে প্রাণ হারান। আমাকে সবাই অস্বাভাবিক মনে করে, হাসপাতালে ফেলে যায়। শেষে আমার পালক বাবা আমাকে কুড়িয়ে নিয়ে গ্রামে বড় করেন। প্রতি বছর জন্মদিনে আমি স্বপ্নে দেখতাম, একটি সাদা সাপ আমাকে পেঁচিয়ে নিয়ে যায় সাপের গুহার ভেতর, সেখানে বিষাক্ত সাপদের সঙ্গে আমাকে থাকতে হতো। এই দুঃস্বপ্ন চলতে থাকে আমার আঠারোতম জন্মদিন পর্যন্ত। সেদিন আমার শরীরে প্যাঁচানো সেই সাদা সাপ হঠাৎ চোখ মেলে তাকায় এবং বলে... আমাকে ফিরিয়ে দাও আমার তিন জন্মের ঋণ...
আর কাছে এসো না! এতগুলো বছর পরেও কি তুমি আমাকে যথেষ্ট বিরক্ত করোনি? দয়া করে, দয়া করে আমাকে ছেড়ে দাও! আমার সামনে থাকা বিশাল সাদা সাপটার দিকে আমি ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে রইলাম, আমার শরীর বেয়ে ঠান্ডা ঘাম ঝরছিল। কিন্তু ওটা আমার মিনতি উপেক্ষা করে আবার ওর লেজ দিয়ে আমাকে পেঁচিয়ে ধরল, আর আমাকে সেই অতল গহ্বরে ছুঁড়ে ফেলল। গহ্বরটা বিষধর সাপে ভর্তি ছিল, তাদের লম্বা জিভগুলো নড়ছিল আর তারা আরেকবার আমার দিকে তেড়ে আসছিল। আমি ভয়ে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেললাম, আর সাথে সাথেই তাদের বিষ আমার গায়ে ছিটিয়ে গেল, যা আমার হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল। আমি জানতাম সাদা সাপটা আমাকে দেখছে। আমি ওর কাছে আমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মিনতি করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিষে আমি অসাড় হয়ে গিয়েছিলাম এবং কোনো শব্দ করতে পারছিলাম না। আমি শুধু গুটিয়ে গিয়ে বিষটাকে আমার শরীরে প্রবেশ করতে দিতে পারছিলাম। অনেকক্ষণ পর, আমার চারপাশে সাপের হিসহিস শব্দ শুনে, আমি ধীরে ধীরে চোখ খুললাম এবং দেখলাম যে আমার একসময়ের ফর্সা ত্বক প্রথমে নীল, তারপর বেগুনি হয়ে গেছে এবং অবশেষে তার আসল রঙে ফিরে এসেছে। কী ঘটছে তা আমি বুঝতে পারছিলাম না এবং নড়তে সাহস করছিলাম না, এই ভয়ে যে বিষে যদি আমার মৃত্যু না-ও হয়, তবে সাপগুলো ঝাঁক বেঁধে এসে আমাকে কামড়ে মেরে ফেলবে। কিন্তু, সাদা সাপটা হিসহিস করে উঠল, আর বিষধর সাপগুলো জোয়ারের মতো পিছু হটল। শীঘ্রই, গুহার মধ্যে শুধু বড় সাদা সাপটা আর আমিই রইলাম। ওটা নিঃশব্দে আমাকে দেখছিল, কিন্তু এবার ওর চোখ দুটোকে অন্যরকম মনে হলো, বিস্ময়ে ভরা। আমি ভয়ে কাঁপছিলাম, ভাবছিলাম এরপর ওটা কী করবে। আগেরবারের মতো, ওটা কি আমাকে গভীর পুকুরটার অন্য পারে পেঁচিয়ে ধরবে? পুকুরের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা আর অসহ্য যন্ত্রণার কথা ভেবে, মৃত্যুর চেয়েও খারাপ অনুভূতির কথা ভেবে আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। আমি আর